রাজনৈতীক সংবাদ

মুসলিম লীগের দলীয় প্রধানের পদে থাকার অধিকারও হারালেন নওয়াজ শরীফ

বুধবার পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের এক রায় তার এ পরিণতি ডেকে এনেছে।

নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রীত্ব হারানোর পরও তার দল ‘পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজ’ (পিএমএল-এন) এর এমপিদের যে বৈধ সংশোধনীর বলে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, আদালতের রায়ে তা উল্টে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ থেকে প্রধান বিচারপতি সাকিব নাসির বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কাগজপত্র থেকে পিএমএল-এন এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে নওয়াজ শরীফের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

“ফলে নওয়াজ শরীফ এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন বা যেসব আদেশে অনুমোদন দিয়েছেন সেগুলো আর প্রযোজ্য নয় বলেই ধরা হবে।”

নওয়াজকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণার ছয়মাস পর সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দিল। পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি মামলার রায়ে গত বছর জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করেছিল।

আর এবারের ঘোষিত নতুন রায়ের ফলে ৩ মার্চে অনুষ্ঠেয় সিনেট নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়ল। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন এর প্রার্থীরা আর বহাল থাকতে পারবেন না। কারণ, তাদেরকে মনোনীত করেছিলেন নওয়াজ।

পিএমএল-এন প্রধানের পদ থেকে নওয়াজকে সরিয়ে দিতে যে ১৭ জন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তাদের একজনের আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী বলেছেন, “আমি যতটুকু বুঝি তাতে প্রার্থীরা এখনও সিনেট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে নয়।”

নওয়াজের গড়া পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এখনো পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের (ন্যাশনাল এসেম্বলি) সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। আগামী ৩ মার্চে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট নির্বাচনেও দলটি জয়ী হওয়ার আশায় আছে।

কারণ, পিএমএল-এন পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আবারও নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হবে।

এর আগে আরো দুই বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ কোনোবারই মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি।

১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে এবং ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্টের আদেশে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়।

Facebook Comments