বাংলাদেশ

দেশের সু-উচ্চ “জ্যাকব টাওয়ার” রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করবেন বুধবার

দেশের সু-উচ্চ “জ্যাকব টাওয়ার” রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করবেন বুধবার

ভোলার চরফ্যাসনের মত প্রান্তিক জনপদে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা বিষ্ময়কর। এই টাওয়ারটি দিনে যেমন সুন্দর রাতে আলোকসজ্জায় আরো সুন্দর ও আকর্ষনীয়। দেশের প্রথম সু-উচ্চ এই টাওয়ার সন্ধ্যার পর হরেক রকম আলোক রশ্মি যেন নান্দনিক বৈতব বিষ্ময় জাগে মনে।

২৪ জানুয়ারী মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বেলা ২-১০ মি: দেশের সু-উচ্চ সর্বাধুনিক “জ্যাকব টাওয়ার” উদ্বোধন করবেন। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারী জ্যাকব টাওয়ারে উদ্বোধনের কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে তাঁর পূর্ব ঘোষিত সফর সূচি বাতিল করা হয়। এই টাওয়ার উদ্বোধনের আগেই দুর দুরান্ত থেকে পর্যটন প্রিয় মানুষ ছুটে আসছে সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

এই টাওয়ার আশপাশ এলাকা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। ১৯ তলা উপরে দাড়িয়ে চারদিকের দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতি দৃশ্যাবলী দুরবীক্ষন যন্ত্রে মাধ্যমে ১০০ কি: মি: দুর দুরান্ত পর্যন্ত উপভোগ করা যাবে। সবুজের বুক চিরে সাগরের উত্তাল ঢেউ কুকরী মুকরী বনের মায়াবী হরিন সহ আজানাকে জানা যাবে। এই টাওয়ারের উপরে দাড়ালে পর্যটকদের চোখ জুড়াবে চরফ্যাশনের দক্ষিনে বিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সমূহের নৈস্বর্গশোভিত দিগন্ত রেখা।

দেশে এই প্রথম বারের মত দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সু-উচ্চ দৃষ্টিনন্দন টাওয়ার নির্মান স্থাপনা প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি বলেন, পৃথিবীতে কেউ বেঁচে থাকেনা, বেঁচে থাকে তার সৃষ্টি ও কর্মে মাধ্যমে। আমি যেদিন বেঁচে থাকবোনা সেদিন এই “জ্যাকব টাওয়ার” আমার কর্মের স্মৃতি বহন করবে। হয়তো আমি এই কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবো অনন্তকাল জুড়ে। এই টাওয়ার দ্বীপ ভোলাবাসীর গর্ব।

চরফ্যাসন পৌরসভা মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ জানান ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারীতে টাওয়ারের নির্মান কাজ শুরু হয়। জিওবি অর্থায়নে চরফ্যাসন পৌরসভা বাস্তবায়নে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ ২শ ৫০ ফুট সু-উচ্চ জ্যাকব টাওয়ারের নির্মান কাজ শেষ হয়। বংলাদেশে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা ভূমিকম্পের সময়ে যাহা সর্বোচ্চ ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি উদ্বোধনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারনের জন্য টাওয়ারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এই টাওয়ারের নির্মান উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি। মূল ডিজাইন ও নির্মানশৈলী বাস্তবায়ন করেছেন বুয়েটের প্রফেসর প্রকৌশলী একে এম শামিমুজ্জামান বসু ও আর্কিটেক্ট এ কে এম কামরুজ্জামান লিটন। মূল ষ্ট্রাকচার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা সরকার ষ্টিল ও মর্ডান ফেব্রিকাটিং সার্ভিস। ৮ মে ২০১৫ সালে বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ ওয়াচ টাওয়ার নাম পরিবর্তন করে “জ্যাকব টাওয়ার” নামকরণ করছেন।

Facebook Comments