রাজনৈতীক সংবাদ

সর্বোচ্চ ১০৩ আসনে জয়ী হবে বিএনপি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করলে বিএনপির বিজয়ী হবার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এমন তথ্যই উঠে এসেছে বিএনপি কর্তৃক পরিচালিত মাঠ জরিপে। একটি খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এই জরিপ চালায় বিএনপি। জরিপে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ী হবে। বিএনপির একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রতি সারাদেশে বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় যে, যদি বিএনপি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে নির্বাচন করে তাহলে সর্বোচ্চ ১০৩টি আসনে বিজয়ী হতে পারবে। অর্থাৎ বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় নির্বাচন করলে বিএনপির ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। জরিপে বলা হয়েছে, যদি শেষ পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন বা একটি আপাত নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হয় তাহলে বিএনপি ২১০টি আসন পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারে।
তবে জরিপে বলা হয়েছে, দেশের ৮২ ভাগ মানুষ এখন হরতাল, অবরোধের মতো সহিংস আন্দোলনের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। এ ধরনের কর্মসূচিতে তাদের সায় নেই। এই মতামত প্রদানকারীরা মনে করেন, সহিংসতা রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উপায় হতে পারে না। জরিপে প্রায় ৬৫ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
বিএনপি পরিচালিত এই জরিপে বলা হয়েছে, ২০০৮ এ অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের অন্তত ২০০ জনই এলাকায় অজনপ্রিয় ও জনবিচ্ছিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনেও নির্বাচন হলেও ২০০৮ এর প্রার্থীদের দিয়ে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয় বলে জনমত জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে।
বিএনপির এই জরিপে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে দেশের ৭২ ভাগ মানুষ মনে করে বিরোধি দল হিসেবে দলটি যথাযথ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। জরিপে উত্তরদাতাদের ৬৭ শতাংশ মনে করে বিএনপি পরিবার কেন্দ্রিক একটি দল। এই দলে গণতন্ত্রের কোনো চর্চা নেই বলেও মনে করে ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা।
বিএনপির একাধিক সূত্র এই জরিপের কথা স্বীকার করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা আর আত্মহত্যা করা একই কথা।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এবং সংসদ রেখে নির্বাচন করলে তা হবে আওয়ামী লীগ সরকারকে আরেকবার বৈধতা দেওয়া।’ অবশ্য তিনি মনে করেন, ‘শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকার দিতেই হবে।’ তাঁর মতে, ‘২০১৮ তে ২০১৪র মতো নির্বাচন করা অসম্ভব ব্যাপার।’ বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকার অথবা ন্যূনতম নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সরে যাওয়া নিয়ে আন্দোলনের বদলে আন্তর্জাতিক লবিং জোরদার করার কথাই ভাবছে বিএনপি। বিএনপি নেতাদের দাবি ভারত ছাড়া সব উন্নয়ন সহযোগীরাই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের দাবিকে সমর্থন করে।

Facebook Comments